CSE এবং ক্যারিয়ার ভাবনা

আপনি CSE-তে পড়ছেন তাহলে অবশ্যই ভাবছেন আপনার ক্যারিয়ার কোনদিকে গড়বেন, আপনার অপশনগুলো কি কি হতে পারে বা আপনার কোন দিকে যাওয়া উচিত। এসব ভেবে থাকলে এই পোস্টটি আপনার জন্য।আমাদের দেশে অনেকই এমন ধারণা পোষন করেন যে, আপনি যেহেতু CSE পড়ছেন তাই অবশ্যই আপনার কম্পিটিটিভ প্রোগ্রমিং করতে হবে বা পারতে হবে অন্যথায় আপনার কোন গতি নেই। আবার কাওকে এমনও বলতে শুনেছি যে আপনি যেহেতু CSE-তে পড়ছেন তাই মরলে পরে কবরে যেয়েও আপনার প্রোগ্রামিং করতে হবে। আর এসব শুনে প্রোগ্রামিং এ কম পারা ছেলেটা বা তেমন কিছুই না বোঝা ছেলেটা টেনশন/ডিপ্রেশন/ফ্রাস্ট্রেশনে পরে যায় আর ভাবে CSE পড়তে এসে হয়ত নিজের ক্যারিয়ারটাই শেষ করে ফেললাম। সত্যবচন হল, CSE-তে ক্যারিয়ার গড়তে হলে প্রোগ্রামিং নলেজ থাকার দরকার আছে তবে কম পারলে বা না পারলেও অনেক অপশন আপনি পাবেন ক্যারিয়ারের জন্য তাই হতাশ হবার কোন দরকার নেই।CSE-তে পড়লে আপনি অনেক সেক্টর সামনে পাবেন আপনার ক্যারিয়ার গড়ার জন্য। নিচে আমি মেইন মেইন কিছু সেক্টর তুলে ধরছি যেগুলো আপনি একজন CSE স্টুডেন্ট হিসেবে বেছে নিতে পারেন-

DEVELOPMENT SECTOR

বেশিরভাগ CSE স্টুডেন্টসদেরই ডেভেলপমেন্ট সেক্টরটির ব্যাপারে ধারনা আছে কমবেশি। আপনি যদি একজন কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামার হয়ে থাকেন, কোডিং ভাল লাগে, স্পেসিফিক প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এ পারদর্শিতা থাকে তাহলে ডেভেলপার সেক্টরটি আপনার জন্য ভালো একটি অপশন হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু ডেভেলপমেন্টের জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে আপনার স্কিল ডেভেলপ করতে হবে।

  • Software Development
  • Web Development
  • Game Development
  • Android Development

এই চারটি উল্লেখযোগ্য ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের মধ্যে আপনি আপনার ইন্টারেস্ট অনুযায়ী স্কিল ডেভেলপ করতে পারেন।

NETWORKING SECTOR

ইন্টারনেট কথাটি যখনই আসে তখনি আসে নেটওয়ার্কিং। ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখা, এটি ব্যবহার করে তথ্য আদান প্রদান করা এসব নিয়ে আপনার আগ্রহ ও ভালো লাগা থাকলে আপনি এই সেক্টরটি আপনার ক্যারিয়ার অপশন হিসেবে পছন্দ করতে পারেন। শুরুতে CCNA কোর্সটি অবশ্যই রেকোমেন্ডেড এই সেক্টরে ঢুকবার জন্য। নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, ইকুইপমেন্টস, নেটওয়ার্কিং প্রটোকল এসবে পারদর্শিতা থাকতে হবে। আপনি প্রোগ্রামিং এ দুর্বল হলে বা প্রোগ্রামিং ভাল না লাগলে এই সেক্টরটি বেছে নিতে পারেন তবে অ্যাডভান্স লেভেলে গেলে আপনার অবশ্যই প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে পারদর্শিতা ও ডেভেলপমেন্ট নলেজ থাকতে হবে বা দরকার পড়বে। যা হতে পারবেন –

  • Network Admin
  • Network Engineer
  • Network Analyst
  • Network Architect

SYSTEM SECTOR

অনেকেই নেটওয়ার্কিং, সিস্টেম এদুটুকে এক সেক্টর মনে করলেও কাজের ধরনে, ব্যবহারে যথেষ্ট ভিন্নতা আছে। ব্যাসিক পার্থক্য হচ্ছে নেটওয়ার্কিং সেক্টর কিম্পিউটার নেটওয়ার্ক এবং সিস্টেম সেক্টর কিম্পিউটার সিস্টেমের ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে কাজ করে। ফান্ডামেন্টাল ব্যাপারগুলো দুটোর ক্ষেত্রে একই। এটির ক্ষেত্রেও CCNA কোর্স করে আপনি শুরু করতে পারেন। অপারেটিং সিস্টেম, সার্ভার এসবে ইন্টারেস্ট থাকলে আপনার জন্য একটি ভাল অপশন। উইন্ডোজ, লিনাক্স, ইউনিক্স, কার্নেল এসব ভালোভাবে জানতে হবে স্পেশালি লিনাক্স ইনভাইরনমেন্ট সম্পর্কে যথেষ্ট পারদর্শিতা রাখতে হবে। যা হতে পারবেন –

  • System/Server Admin
  • System Engineer
  • System Analyst
  • System Architect

ক্লাউড কম্পিউটিং, ভার্চুয়ালাইজেশন এদুটোও নেটওয়ার্ক/সিস্টেম সেক্টরের অন্তর্গত এবং হাই ডিম্যান্ড, ভাস্ট এবং চ্যালেঞ্জিং একটি সেক্টর।

CYBERSECURITY SECTOR

এখানে যে সেক্টরগুলোই উল্লেখ করছি সবই কিন্ত ডিমান্ডেবল কিন্ত যখনই সাইবারসিকিউরিটির কথা আসে তখন নির্দিষ্ট করে বলতেই হয় ‘It is one of the most demandable subjects in the whole world right now’. সবকিছুই যখন ইন্টারনেটের আওতায় চলে আসছে তখন সেটি সিকিউর করা অন্যতম প্রধান একটি কাজ। একটি তথ্য মতে আমেরিকার মত দেশে ৩ ভাগের প্রয়োজনে ১ ভাগ সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্টও নেই, সেখানে বাংলাদেশ এর কথা নাই বললাম।নেটওয়ার্কিং নলেজ, সিস্টেম নলেজ, লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে এক্সপার্ট স্পেশালি কালি লিনাক্স ইনভাইরমেন্ট, কোডিং স্পেশালি পাইথন এসব বিষয়ে পারদর্শি থাকতে হবে। এসব বিষয়ে আপনার আগ্রহ থাকলে আর আর স্কিল ডেভেলপ করতে পারলে আপনার ফিউচার ব্রাইট। প্রধান দুটি দিক –

  • Offensive
  • Defensive

AI/ML SECTOR

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আর মেশিন লার্নিং নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। সারা বিশ্বেই এটি ট্রেন্ডি এবং ওয়ান অব দ্যা মোস্ট ডিমান্ডেবল সেক্টর। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো অন-গ্রোয়িং। কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং, পাইথন ল্যাংগুয়েজ, মেশিন লার্নিং, ডাটা সায়েন্স, স্টাটিসটিকস এইসব বিষয়ে আগ্রহ ও স্কিল্ড ডেভেলপ করতে পারলে এই সেক্টরটি আপনার জন্য ভালো একটি অপশন।

  • AI Engineer
  • ML Engineer

DATABASE SECTOR

আপনি ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে গেলে খুব ভালভাবেই ডাটাবেজের সাথে পরিচিতি লাভ করবেন কিন্তু শুধুমাত্র ডাটাবেজে এক্সপার্ট হয়েই আপনি অনেক ভাল কিছু করতে পারেন আর জব মার্কেটেও হিউজ ডিম্যান্ড রয়েছে এর। প্রবলেম সলভিং স্কিল, ডেটাবেজ ল্যাংগুয়েজ যেমন SQL-এ পারদর্শী হতে হবে। যা হতে পারবেন –

  • Database Admin
  • Database specialist
  • Cloud Database
  • Database Security etc.

ANIMATION SECTOR

এখনো Animation সেক্টরে যোগ্য বা পারদর্শী লোকের বড় রকমের ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশে হাতে গোনা কজন মাত্র কিন্ত যারাই এই সেক্টরে পারদর্শিতার সাথে এগিয়েছেন প্রত্যেকেই অনেক বড় যায়গায় গিয়েছেন। বর্তমানে Animation এর চাহিদা আর সব উন্নত দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও যেভাবে বেড়ে চলছে তাতে নিঃসন্দেহে আপনি বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতেই পারেন। কয়েকধরনের অ্যানিমেশন টাইপ হল –

  • Traditional Animation
  • 2D Animation
  • 3D Animation
  • Motion Graphics
  • Stop Motion

কোডিং নলেজ না থাকলেও আপনি অনেক ভাল কিছু করতে পারবেন তবে কিছু কাজ আছে যেগুলো কোডিং নলেজ থাকলে সহজে এবং কম সময়ে করতে পারবেন। অ্যানিমেশন তৈরির জন্য বিভিন্ন টুলস/সফটওয়্যার আছে যেগুলতে আপনাকে পারদর্শী হতে হবে যেমন Autodesk Maya, Unity, Powtoon, Adobe Animate ইত্যাদি।

GRAPHICS SECTOR

অনেকে গ্রাফিক্স কে ছোট করে দেখলেও এটি মোটেও ছোট করে দেখার বিষয় নয়। আপনি একজন এক্সপার্ট গ্রাফিক্স ডিজাইনার হয়ে আপনার ক্যারিয়ার অনেক দূর নিয়ে যেতে পারেন। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের সাপ্তাহিক আয় আপনাকে বিস্মিত করতে পারে। লোগো ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, ওয়েব পেইজ ডিজাইন, ইন্টারফেস ডিজাইন সহ আরো অনেক ডিজাইন আছে যেগুলো শিখে বা করে আপনি আপনার ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে পারবেন। গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য অনেক সফটওয়্যার আছে যেমন Adobe Photoshop, Adobe Illustrator, Sketch, Adobe InDesign, Affinity Designer ইত্যাদি।এটির ক্ষেত্রে কোডিং দক্ষতা ছাড়াও আপনি সর্বোচ্চ কিছু করতে পারবেন।

শেষকথা

সংক্ষিপ্তভাবে যতটুকু বলা যায় বলার চেষ্টা করেছি। এসব ছাড়াও আরো অনেক সেক্টর রয়েছে ক্যারিয়ার গড়বার জন্য তবে যেগুলো উল্লেখ করেছি সেগুলো সবই বাংলাদেশ এবং বিশ্বের জব মার্কেটে ডিমান্ডেবল/হাই ডিমান্ডেবল/মোস্ট ডিমান্ডেবল সেক্টর।

আসল কথা হল আপনি যে সেক্টরটিতেই যান না কেন আপনার সেটাতে দক্ষতা থাকতে হবে বা অর্জন করতে হবে। আপনার দক্ষতাই আপনাকে আপনার ক্যারিয়ারে সফলতা দিবে এমনকি আপনার ভীষন খারাপ CGPA-ও দক্ষতার আড়ালে মলিন হয়ে যাবে। অন্যদিকে আপনি আপনার CGPA-এর দিকে শুধু নজর দিতে যেয়ে কোন পার্টিকুলার সেক্টরে দক্ষতা অর্জন না করে থাকলে সেক্ষেত্রেও আফসোস করতে হতে পারে।

কোন সেক্টরে যাবার জন্য কিভাবে শুরু করবেন সেটির জন্য নিজ নিজ আগ্রহের উপরে ভিত্তি করে রিসার্চ শুরু করুন। পরামর্শের প্রয়োজন হলে বড় ভাই বা আপনার মেন্টরের সাহায্য নিন অথবা শুধু একটু খোঁজ করে দেখুন আপনাকে সাহায্য করার লোকের অভাব হবে না।

ভুল-ত্রুটি থাকলে অবশ্যই সংশোধন করে দিবেন এবং কোন জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

ধন্যবাদ।

Leave a Comment